Saturday, October 8, 2022

নারীর নির্বেদ

নব্বই দশকের বেশিরভাগ মায়েরা ভেবেছেন "শিক্ষাতেই আমার মেয়ে সন্তানের মুক্তি"। তাঁদের সেই ধারণাটা একেবারে উড়িয়েও দেওয়া যায় না ! সেই মায়েদের বেশিরভাগই নিজেরা পড়াশুনা করতে পারেন নি, অনেক মায়েদের ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সুযোগ হয়ে ওঠেনি। এদিকে অনেকে পড়াশুনা করলেও নিজের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাননি। তাই তাঁদের মাঝে এরকম বিশ্বাস তৈয়ার হওয়াটাই স্বাভাবিক যে আমার মেয়ে সন্তানটি যদি পড়াশুনা করে, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পা


রে তবেই তাকে আর তার পুরো জীবনটা হেঁসেলে বিসর্জন দিতে হবে না, মানুষ হয়েও ঘরের কোণের আসবাব এর মতন নিষ্ক্রিয়-অকেজো হয়ে জীবনটা বয়ে নিয়ে যেতে হবে না, যেমনটা মায়েদের সাথে ঘটেছে।

এদিকে; তারই নিরিখে বাঙালি মেয়েরা শিক্ষিত হচ্ছেন ঠিকই, অনেকেই হয়ে উঠছেন স্বশিক্ষিত। কিন্তু সেটিই বেশিরভাগের জীবনে আশীর্বাদ না হয়ে, হয়ে উঠেছে অভিশাপ। 

আর সেখান থেকেই বেশিরভাগ নারীর জীবনে শুরু হয় হতাশা ! 

এক্ষেত্রে খানিকটা অপ্রিয় শোনালেও বলা চলে, এর দায় পুরোটাই বাবা-মায়ের উপরেই বর্তায়। নব্বই দশকের বাবা-মায়েরা তাদের মেয়ে সন্তানকে শিক্ষিত করে তুললেও, নিজের ছেলে সন্তানকে স্বশিক্ষিত করে গড়ে তোলার ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন থেকেছেন। 

তাই দেশে শিক্ষিত ছেলের অভাব নেই বটে, কিন্তু একজন শিক্ষিত-স্বাধীনচেতা নারীকে সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করে তাকে ধারণ করার মতন স্বশিক্ষিত ছেলে হাজারে হয়ত একটিও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

এদিকে; নব্বই দশকের বাবা-মায়েরা নিজের মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে উদার মনোবৃত্তি পোষণ করলেও ছেলের বউ নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের বরাবরের মতন ওই 'দাসী'ই চাই ! সামাজিক স্টেটাস বজায় রাখার জন্যে শিক্ষিত মেয়ে না হলেতো চলেই না, কিন্তু দিনশেষে দাসীবৃত্তি না করলে তার মার্জনা নেই !  উলটো তাকে নানান ধরনের মানসিক অত্যাচারের স্বীকার হতে হবে। 

তাই নারী শিক্ষিত হোউক আর নিরক্ষর, কর্মজীবী হোউক আর কর্মহীন কিংবা গৃহিণী; হতাশা থেকে নারীর মুক্তি নেই। আর তার জন্য ওই অনেকটাই দায়ী নব্বই দশকের বাবা-মায়েদের কপটচারী মনোভাব। তাঁরা নিজের মেয়ে সন্তানকে উন্নত জীবন যাপনের লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন, অথচ বীপরিতে ছেলে সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত-স্বাধীনচেতা সঙ্গিনীকে ধারণ করার মতন উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলেননি, এক্ষেত্রে নিজেরাও নিজেদের কপটচারী মনোভাব পরিবর্তনে নারাজ; যার বলির পাঠা বরাবরের মতন একজন নারীকেই হত হয়, হতে হচ্ছে।


Monday, September 12, 2022

সৃজিত সংসার

 এসো ...।

হাতটা ধরো,


কোথায় যাবো আমরা ? 


সুখের নীড়ে, আমার সৃজিত সংসারে ।


সেতো "তোমার" ! 


যা আমার তা কি তোমার নয়? আমি মানেই তো তুমি । তুমি আমার ছায়া, আমার অর্ধাঙ্গীনি । 


অর্ধাঙ্গীনি কি করে ছায়া হয় ? 

আর যা তোমার তাই তাও আমার নয় । 

তোমার-আমার মিলেই আমাদের হয় । 


ছায়াতে মানুষেতে কি আর ভালোবাসা হয় ?

ছায়া বাঁচে দয়া আর করুণায়। 

তাই আমিতো ছায়া হতে চাই না। 

মানুষ হয়ে তোমার হাতে হাত রেখে পায়ে পা মিলিয়ে এই তোমারই পাশে তোমাকে ভালোবেসে একসাথে পথ চলতে চাই ।


আদতে তার কোন প্রয়োজন আছে কি ? আমিই তো তোমার পথের দিশারী । আমার আলোয় আলোকিত হবে তুমি । 


জানোতো, চাঁদ বাঁচে সূর্যের দয়ায়, 

সূর্যের দয়া ছাড়া অন্ধকার সেই চাঁদের কথা কেই বা জানতে চায় ?

তোমার আলোয় না হয় ক্ষণিকের জন্যে নিজেকে আলোকিত করলাম, 

কিন্তু সে আলো ব্যতীত আমি যে অন্ধকারে দিশেহারা হয়ে কাঁদবো, তাই নিজের আলোয় আমার আলোকিত হওয়া চাই । 


জানোতো? 

দুটি আলোকিত হৃদয়েরই কেবল হৃদ্যতা হয়, আর সেই হৃদ্যতা থেকেই হয় ভালোবাসা ।

আধাঁরে আর আলোতে যে সম্পর্ক ? 

তা হতে পারে দয়ার, করুণার, শোষক-শাষিত কিংবা  প্রভূ-ভৃত্যের ;

আমরা প্রায়শই তা প্রেম ভেবে ভুল করি । 

একার আলিঙ্গনে কি আর প্রেম হয় !


তাই তোমার এই আলোকিত হৃদয়টিকে ভালোবাসতে হলে আমার হৃদয়খানি আলোকিত করার যে বড় বেশী প্রয়োজন  ।।

Friday, July 22, 2022

নভে অনুস্মরণ

 হঠাৎ আলমারির কোণ থেকে বেরিয়ে এলো বহুদিন পরা হয় না এমন একটি পোষাক, একসময় হয়ত এটিই ছিলো সবচাইতে পছন্দের পোষাক। সময়ের সাথে সাথে পোষাক তার যুগোপযোগিতা হারিয়েছে, আলমারির উপরের তাক থেকে ধীরে ধীরে সে অকেজোদের দলে চলে এসেছে ।

কিন্তু অকস্মাৎ চোখে পরে যাওয়া পোশাকটি যখন স্পর্শ করা হলো তখন হয়তো মনের অজান্তেই মুখে হাসি ফুটে উঠলো, কিংবা গাল বেয়ে টপ টপ করে ফোঁটা ফোঁটা জল গড়িয়ে পরতে লাগলো। একটা পোষাক কত শত স্মৃতি মনে করিয়ে দিল। হয়ত এই পোশাকটিই ছিলো বহু বছর আগে "তার" সাথে প্রথম দেখা হওয়ার সেই দিনটির পোশাক, কিংবা শিক্ষাজীবনের শেষ দিনটিতে পরা পোষাক, বা এই পোশাকটিই হয়তো "তার" সাথে কাটানো শেষ ক্ষণটির স্মৃতি। এমন আরো কত কি'ইতো হতে পারে ।

আমরা মানুষেরা বোধহয় কখনই কোন স্মৃতি ভুলে যাই না। নিজের মাঝে ভুলে থাকার একটা অভ্যাস গড়ে তুলি মাত্র। আর তাই তো অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও অনেক সময় অনেক স্মৃতি আমরা মনে করতে পারি না, আবার কখনো কখনো অবেলায় অনাকাঙ্ক্ষিত কত স্মৃতিই না মনে পরে যায়। আমাদের স্মৃতি গুলো লুকিয়ে থাকে আমাদের চারপাশে।

দূর থেকে ভেসে আসা বছর কয়েক না শোনা কোন গানের সুর আচমকাই মনকে বিমোহিত করে তোলে। মনে পরে যায় হারিয়ে যাওয়া হাজারো সুখো-স্মৃতির কথা। কষ্টগুলো হৃদয় নিংড়ে অশ্রু হয়ে উপচে পরে। এমনি ভাবে কখনো কখনো কোন গানের কলি বা কবিতা মনে করিয়ে দেয় হারিয়ে যাওয়া অনেক স্মৃতি। এমনকি অপরিচিত কোন সুগন্ধীও, হঠাৎ মনে করিয়ে দেয় কোন এক পরিচিত জনের স্মৃতি। আবার কখনো কখনো কোন মুহূর্তও মনে করিয়ে দেয় হারানো কোন এক মুহূর্তের কথা।

আমরা স্মৃতি ধারণ করি, কিন্তু স্মৃতি বয়ে চলি না। তাই আপাতপক্ষে আমরা অকপটেই আমাদের কোন আপনজনকে, কোন মুহূর্তকে ভুলে থেকে ভালো থাকার কথা বললেও; আদৌ আমরা ভালো থাকি কি ?






Tuesday, July 19, 2022

দাম্পত্য জীবনের ত্যাগের প্রতি কেনো আমরা উদাসীন !

 নারীদের ক্ষেত্রে হরহামেশা এমনটা দেখা যায় না বললেই চলে।

তবে ক্ষেত্রবিশেষে অনেকসময়ই দেখা যায়, একজন স্ত্রী তার স্বেচ্ছাচারিতার বলে একসময় তার স্বামীকে তার নিজের পরিবার ছাড়তে বাধ্য করেন, নিজের অস্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে স্বামী ব্যক্তিটিকে বাধ্য করেন 'মুখে রক্ত তুলে' আয় করতে, আর সব আদায় করা হয়ে গেলে নতুন স্বপ্নের খোঁজে নতুন কারো সাথে নতুন কোনো জীবনে পাড়ি জমান !

এদিকে, পুরুষেরা অল্প বয়সে তার সঙ্গিনীটির প্রেমে পরেন, পরবর্তীতে তাকে স্ত্রী করে ঘরে তুলে সেই ঘরশুদ্ধ পরিবার-পরিজন-আত্নীয়-অনাত্মীয়, এবং সকল দায়-দায়িত্ব স্ত্রীটির দু'কাঁধে চাপিয়ে দেন। "এই'ই তো ভালোবাসা" ভেবে স্ত্রী বেচারি মুখ বুজে সব দায়িত্ব পালন করতে করতে একসময় নিজের যত্ন নিতেই ভুলে যান! আর তখনই স্বামী ব্যক্তিটির মনে হয় এই স্ত্রী তো তার সাথে একেবারেই বেমানান ! এক সময়কার সুদর্শনা ও মেধাবী একজন নারীকে যে আখমাড়াই এর মতন নিংড়ে নিংড়ে তার সবটুকুন শুষে নেওয়া হয়েছে, স্বামী ভদ্রলোকটির ঘূর্ণাক্ষরেও তা মনে পরে না ! তখন তিনি বিতিব্যস্ত হয়ে বেরিয়ে পরেন নতুন সঙ্গিনীর সন্ধানে। হয় বর্তমানকে ছেড়ে ভবিষ্যৎকে বিয়ে করে নেন, আর খুব 'দুর্নীতিগ্রস্ত' হলে বর্তমানকে ব্যবহার করে নিজের সামাজিক মর্যাদাকে সাম্যাবস্থায় রেখে ভবিষ্যৎ এর সাথে 'কোয়ালিটি' সময় কাটিয়ে বেড়ান।


ছবি: ইন্টারনেট

বলা চলে; যারা ধর্মীয়, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন তারা প্রতিটা মুহূর্তে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কারণ সৃষ্টিকর্তা আমাদের প্রাণ দিয়েছেন, রিজিক দিয়েছেন। অন্যদিকে, ধর্মীয় দৃষ্টিতে যা কিছু অন্যায় তা থেকে বিরত থাকেন ওই সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই। একইসাথে বাবা-মা পছন্দ করেন না, এমনকিছু করতেও আমরা নারাজ, প্রতিমুহূর্তে বাবা-মায়ের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। কারণ বাবা বুকের রক্ত মুখে তুলে আমাদের মানুষ করেছেন, মা আমাদের জন্যে নিজের এক সময়কার সব শখ-আহলাদ ত্যাগ করেছেন।

অথচ এই আমরাই নিজের স্বামী কিংবা স্ত্রীর ক্ষেত্রে এমনটা ভাববার ভাবনাটুকুনও ভাবি না। বাবা যেমন নিজের আরাম-আয়েশ শিকেয় তুলে সন্তানের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভাবেন, স্বামীরাও কি একইভাবে স্ত্রীদের খেয়াল রাখেন না? (ব্যতিক্রম তো আছেই)স্ত্রীর শখের শাড়িটি কিনে দেওয়ার জন্যে স্বামী ভদ্রলোকটি হয়ত অনেকসময়ই ইদ বা পূজোয় নিজের পছন্দের কাপড়টি কেনেন না! অনেকেই আবার অসুখের দিনগুলোতে রাত জেগে স্ত্রীর সেবা করেন। অন্যদিকে, নিঃসন্দেহে বলা যায় স্ত্রীরা একেবারে নিজেদের সবটুকুন দিয়ে স্বামী ও তার পরিবারকে আগলে রাখেন। অবলীলায় নিজের ছোটো থেকে বড় এমন হাজারো ইচ্ছের অপমৃত্যু ঘটিয়ে দেন হাসিমুখেই !

যদি সৃষ্টিকর্তার দানের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতাবোধ করি, বাবা-মা-ভাই-বোনের ত্যাগের বীপরিতে আমরা কৃতজ্ঞতাবোধ করি; তবে যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একজন মানুষ অন্য একজন মানুষের অতীত না জেনে, ভূত-ভবিষ্যৎ না ভেবেই নিজের জীবনটাকে মানুষটার জীবনটার সাথে জড়িয়ে নিলো, কোনোরকম কোনো রক্তের সম্পর্ক না থাকার পরেও কেবল আত্মিক বন্ধনের নিমিত্তে একে অন্যের জন্যে ওমন বড় বড় বলিদান করতে প্রস্তুত হয়ে গেলো; সেই সম্পর্ক কি এত ঠুনকো হতে পারে ? সেই সম্পর্ককে যেনো স্রেফ একটা 'অভিলাষ' বলেই চালিয়ে দেওয়া যায়। যখন ইচ্ছে হয় মনের দোহাই দিয়ে একে অন্যকে ছেড়ে চলে যাওয়া যায় ! বেশিভাগ সময়ই চলে যাওয়া মানুষটা যাবার বেলায় রেখে যাওয়া মানুষটার দিকে ফিরেও তাকান না !

মানুষের মনতো? ঋতুর চাইতেও দ্রুত পালটায়। তা সে হতেই পারে !

কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাবা-মা-পরিবার ও রক্তের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৃতজ্ঞতাবোধ-ত্যাগ এই অনুভূতিগুলো যদি আমাদের এত ভাবায়, তবে স্বামী কিংবা স্ত্রীর ত্যাগের প্রতি কেনো আমরা এত উদাসীন। কেনো সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে 'কৃতজ্ঞতা' নামক বোধটি আমাদের মাঝে জেগে উঠে না ! কেনো সেই অঙ্গীকারকে সহজেই অস্বীকার করার প্রচলনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি আমরা !

কেনো অধুনাকালে একে অন্যের জন্যে করা ত্যাগের দিকে তাকানোর চাইতে একে অন্যকে 'ত্যাগ' করার ক্ষেত্রেই আমরা অতি উৎসাহী হয়ে উঠছি ?

Like
Comment
Share

Saturday, July 16, 2022

ধর্মের দোহাই নয়, বিবেক বিবেচনায় শিশুর মাঝে জাগিয়ে তুলতে হবে মানবিকতা

আমার পাঁচ বছর বয়সী ভাগ্নী দারুণ চঞ্চল, প্রাণোচ্ছলও ভীষণ। ইদানীং দেখছি সে নতুন একটা বিষয় শিখেছে। 

যখন তাকে কোনোকিছু করতে নিষেধ করা হয়, বা কোনো কিছু করতে বলা হয়, কিংবা কোনো কিছু হয়ত তার মন মতন ঘটছে না, কিন্তু সে ঘটাতে চাচ্ছে; তখনই সে "ধর্ম" বিষয়টাকে নিয়ে এসে তার কার্যসিদ্ধির চেষ্টা করে৷ এই যেমন সে তার মায়ের ব্যাগ খুলে ব্যাগ থেকে তার মায়ের মোবাইল ফোন নিতে যাচ্ছিলো, ওমনি আমি বিষয়টা দেখামাত্রই তাকে বললাম, "অন্যকে না বলে অন্যের জিনিস ধরাতো খারাপই, তার উপর তুমি মোবাইল ফোন ধরছো, এটাতো আরও খারাপ।" 

উত্তরে সে আমাকে বললো, "মায়ের মোবাইল ধরা সুন্নত।"

ঠিক এরকমই, 'চকলেট খাওয়া সুন্নত, দুপুরে ঘুমানো গুণাহ, রাতে ভাত না খেয়ে পিৎজা খাওয়া ফরয, ছোটো বাচ্চাদের মোবাইলে গেম খেলতে দেওয়া ফরয'; এরকম নিজের সুবিধামতন মনগড়া সুন্নত আর ফরয সে দিন দিন বানিয়েই চলেছে !  

এই বিষয়টা তার মধ্যে কেনো গড়ে উঠেছে ? 

কারণ তার আরবী শিক্ষক তাকে কোনোকিছু শেখানোর ক্ষেত্রেই বলেন, এমুক করা গুণাহ, তমুক করা সওয়াব। বেশি দুষ্টামি করলে বলেন, না পড়ে দুষ্টামি করা গুণাহ। এ কারণেই তার মনে হয়েছে এ জগতে সবকিছুই কেবল গুণাহ-সওয়াব আর পাপ-পুণ্যের দোহাই দিয়ে খুব সহজেই আদায় করা যায়।

বাস্তবিক, আমরা প্রায় সময়ই ধর্মের দোহাই দিয়ে খারাপ কোনো বিষয় থেকে আমাদের শিশুদেরকে বিরত রাখার চেষ্টা করি। যেহেতু এই পন্থা সংক্ষিপ্ত আর সহজ, এজন্য বরাবরই আমরা এই পথটাকেই বেছে নেই। এটা করলে গুণাহ হবে, ওটা করলে পাপ হবে, সেটা করলে পুণ্য হবে; এতটুকুন শিক্ষা দিয়েই আমরা রীতিমতন হাত ধুয়ে ফেলি। 

এইতো সেদিন একটা সাত বছর বয়সী শিশুকে দেখছিলাম স্টিলের একটা গ্লাস বা এরকম কিছু একটা দিয়ে ফ্লোরে আঘাত করে খুব জোরে জোরে শব্দ করছিলো। শিশুটির মা এই বলে তাকে বারবার সতর্ক করছিলেন, এরকম বিচ্ছিরি শব্দ করো না আল্লাহ গুণাহ দিবেন। শিশুটি চারপাশে তাকালো, আবার শব্দ করতে লাগলো ! মা আবারও একই কথা বলে শিশুটিকে সতর্ক করলেন আর এরপরে পিঠে দুচার ঘা দিয়ে বসলেন। 

অথচ মা যদি একটু ধৈর্য্য ধারণ করে শিশুটিকে ঠিক এভাবে বুঝাতেন, বাসায় অন্য মানুষেরা আছে, তার অসুস্থ দীদা আছেন, সে এই শব্দ করাতে দীদার ঘুমুতে, বিশ্রাম নিতে কষ্ট হচ্ছে, আর এভাবে মানুষকে কষ্ট দিলে সৃষ্টিকর্তাও বিমুখ হতে পারেন। তবে নিশ্চয় শিশুটি বুঝতো, এবং এই শিক্ষা ভবিষ্যতে তাকে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করতো। এই ছোট্ট একটা শিশু গুনাহ-সওয়াব কিংবা পাপ-পুণ্যের কি'ইবা বুঝবে, কতটুকুনই আর বুঝবে !  অথচ মা ধরেই নিয়েছেন পাপ-পুণ্যের ভয় কিংবা প্রলোভন দেখালেই তার অবুঝ সন্তানটি তার কথা শুনবেই ! 

এভাবেই অনেকটা আধেক আর একরকম ভ্রান্ত বিধিনিষেধের বেড়াজালে বেড়ে উঠে আমরা অনেকেই হয় অত্যন্ত অবিশ্বাসী হয়ে গড়ে উঠি, কিংবা পরিণত বয়সে ভন্ড হয়ে উঠি। নিজেদের মনগড়া পাপ-পুণ্য আর গুণাহ-সওয়াবের তালিকা বানিয়ে সমাজ থেকে নিজেদের সর্বোচ্চ সুবিধাটুকুন আদায় করি, অন্যকে শোষণ ও দাবিয়ে রাখার হাতিয়ার হিসেবে ধর্মকে ব্যবহার করি। যে ধর্মের সাথে মানবিকতা, ক্ষেত্রবিশেষে সত্যিকারের ধর্মের আদৌ কোনো সম্পর্কই থাকে না !

মায়ের মানসের অনাময

ধরুন সকালে ঘুম ভাঙ্গা থেকে আরম্ভ করে ঘুমুতে যাবার সময় পর্যন্ত, এবং পুরো ঘুমের সময়টাতেও আপনি অনুভব করলেন কেউ আপনার পেছনে লেজের মতন করে একটা দ...