নারীদের ক্ষেত্রে হরহামেশা এমনটা দেখা যায় না বললেই চলে।
তবে ক্ষেত্রবিশেষে অনেকসময়ই দেখা যায়, একজন স্ত্রী তার স্বেচ্ছাচারিতার বলে একসময় তার স্বামীকে তার নিজের পরিবার ছাড়তে বাধ্য করেন, নিজের অস্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে স্বামী ব্যক্তিটিকে বাধ্য করেন 'মুখে রক্ত তুলে' আয় করতে, আর সব আদায় করা হয়ে গেলে নতুন স্বপ্নের খোঁজে নতুন কারো সাথে নতুন কোনো জীবনে পাড়ি জমান !
এদিকে, পুরুষেরা অল্প বয়সে তার সঙ্গিনীটির প্রেমে পরেন, পরবর্তীতে তাকে স্ত্রী করে ঘরে তুলে সেই ঘরশুদ্ধ পরিবার-পরিজন-আত্নীয়-অনাত্মীয়, এবং সকল দায়-দায়িত্ব স্ত্রীটির দু'কাঁধে চাপিয়ে দেন। "এই'ই তো ভালোবাসা" ভেবে স্ত্রী বেচারি মুখ বুজে সব দায়িত্ব পালন করতে করতে একসময় নিজের যত্ন নিতেই ভুলে যান! আর তখনই স্বামী ব্যক্তিটির মনে হয় এই স্ত্রী তো তার সাথে একেবারেই বেমানান ! এক সময়কার সুদর্শনা ও মেধাবী একজন নারীকে যে আখমাড়াই এর মতন নিংড়ে নিংড়ে তার সবটুকুন শুষে নেওয়া হয়েছে, স্বামী ভদ্রলোকটির ঘূর্ণাক্ষরেও তা মনে পরে না ! তখন তিনি বিতিব্যস্ত হয়ে বেরিয়ে পরেন নতুন সঙ্গিনীর সন্ধানে। হয় বর্তমানকে ছেড়ে ভবিষ্যৎকে বিয়ে করে নেন, আর খুব 'দুর্নীতিগ্রস্ত' হলে বর্তমানকে ব্যবহার করে নিজের সামাজিক মর্যাদাকে সাম্যাবস্থায় রেখে ভবিষ্যৎ এর সাথে 'কোয়ালিটি' সময় কাটিয়ে বেড়ান।
![]() |
| ছবি: ইন্টারনেট |
বলা চলে; যারা ধর্মীয়, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন তারা প্রতিটা মুহূর্তে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কারণ সৃষ্টিকর্তা আমাদের প্রাণ দিয়েছেন, রিজিক দিয়েছেন। অন্যদিকে, ধর্মীয় দৃষ্টিতে যা কিছু অন্যায় তা থেকে বিরত থাকেন ওই সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই। একইসাথে বাবা-মা পছন্দ করেন না, এমনকিছু করতেও আমরা নারাজ, প্রতিমুহূর্তে বাবা-মায়ের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। কারণ বাবা বুকের রক্ত মুখে তুলে আমাদের মানুষ করেছেন, মা আমাদের জন্যে নিজের এক সময়কার সব শখ-আহলাদ ত্যাগ করেছেন।
অথচ এই আমরাই নিজের স্বামী কিংবা স্ত্রীর ক্ষেত্রে এমনটা ভাববার ভাবনাটুকুনও ভাবি না। বাবা যেমন নিজের আরাম-আয়েশ শিকেয় তুলে সন্তানের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভাবেন, স্বামীরাও কি একইভাবে স্ত্রীদের খেয়াল রাখেন না? (ব্যতিক্রম তো আছেই)স্ত্রীর শখের শাড়িটি কিনে দেওয়ার জন্যে স্বামী ভদ্রলোকটি হয়ত অনেকসময়ই ইদ বা পূজোয় নিজের পছন্দের কাপড়টি কেনেন না! অনেকেই আবার অসুখের দিনগুলোতে রাত জেগে স্ত্রীর সেবা করেন। অন্যদিকে, নিঃসন্দেহে বলা যায় স্ত্রীরা একেবারে নিজেদের সবটুকুন দিয়ে স্বামী ও তার পরিবারকে আগলে রাখেন। অবলীলায় নিজের ছোটো থেকে বড় এমন হাজারো ইচ্ছের অপমৃত্যু ঘটিয়ে দেন হাসিমুখেই !

No comments:
Post a Comment