Tuesday, July 19, 2022

দাম্পত্য জীবনের ত্যাগের প্রতি কেনো আমরা উদাসীন !

 নারীদের ক্ষেত্রে হরহামেশা এমনটা দেখা যায় না বললেই চলে।

তবে ক্ষেত্রবিশেষে অনেকসময়ই দেখা যায়, একজন স্ত্রী তার স্বেচ্ছাচারিতার বলে একসময় তার স্বামীকে তার নিজের পরিবার ছাড়তে বাধ্য করেন, নিজের অস্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে স্বামী ব্যক্তিটিকে বাধ্য করেন 'মুখে রক্ত তুলে' আয় করতে, আর সব আদায় করা হয়ে গেলে নতুন স্বপ্নের খোঁজে নতুন কারো সাথে নতুন কোনো জীবনে পাড়ি জমান !

এদিকে, পুরুষেরা অল্প বয়সে তার সঙ্গিনীটির প্রেমে পরেন, পরবর্তীতে তাকে স্ত্রী করে ঘরে তুলে সেই ঘরশুদ্ধ পরিবার-পরিজন-আত্নীয়-অনাত্মীয়, এবং সকল দায়-দায়িত্ব স্ত্রীটির দু'কাঁধে চাপিয়ে দেন। "এই'ই তো ভালোবাসা" ভেবে স্ত্রী বেচারি মুখ বুজে সব দায়িত্ব পালন করতে করতে একসময় নিজের যত্ন নিতেই ভুলে যান! আর তখনই স্বামী ব্যক্তিটির মনে হয় এই স্ত্রী তো তার সাথে একেবারেই বেমানান ! এক সময়কার সুদর্শনা ও মেধাবী একজন নারীকে যে আখমাড়াই এর মতন নিংড়ে নিংড়ে তার সবটুকুন শুষে নেওয়া হয়েছে, স্বামী ভদ্রলোকটির ঘূর্ণাক্ষরেও তা মনে পরে না ! তখন তিনি বিতিব্যস্ত হয়ে বেরিয়ে পরেন নতুন সঙ্গিনীর সন্ধানে। হয় বর্তমানকে ছেড়ে ভবিষ্যৎকে বিয়ে করে নেন, আর খুব 'দুর্নীতিগ্রস্ত' হলে বর্তমানকে ব্যবহার করে নিজের সামাজিক মর্যাদাকে সাম্যাবস্থায় রেখে ভবিষ্যৎ এর সাথে 'কোয়ালিটি' সময় কাটিয়ে বেড়ান।


ছবি: ইন্টারনেট

বলা চলে; যারা ধর্মীয়, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন তারা প্রতিটা মুহূর্তে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কারণ সৃষ্টিকর্তা আমাদের প্রাণ দিয়েছেন, রিজিক দিয়েছেন। অন্যদিকে, ধর্মীয় দৃষ্টিতে যা কিছু অন্যায় তা থেকে বিরত থাকেন ওই সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই। একইসাথে বাবা-মা পছন্দ করেন না, এমনকিছু করতেও আমরা নারাজ, প্রতিমুহূর্তে বাবা-মায়ের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। কারণ বাবা বুকের রক্ত মুখে তুলে আমাদের মানুষ করেছেন, মা আমাদের জন্যে নিজের এক সময়কার সব শখ-আহলাদ ত্যাগ করেছেন।

অথচ এই আমরাই নিজের স্বামী কিংবা স্ত্রীর ক্ষেত্রে এমনটা ভাববার ভাবনাটুকুনও ভাবি না। বাবা যেমন নিজের আরাম-আয়েশ শিকেয় তুলে সন্তানের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভাবেন, স্বামীরাও কি একইভাবে স্ত্রীদের খেয়াল রাখেন না? (ব্যতিক্রম তো আছেই)স্ত্রীর শখের শাড়িটি কিনে দেওয়ার জন্যে স্বামী ভদ্রলোকটি হয়ত অনেকসময়ই ইদ বা পূজোয় নিজের পছন্দের কাপড়টি কেনেন না! অনেকেই আবার অসুখের দিনগুলোতে রাত জেগে স্ত্রীর সেবা করেন। অন্যদিকে, নিঃসন্দেহে বলা যায় স্ত্রীরা একেবারে নিজেদের সবটুকুন দিয়ে স্বামী ও তার পরিবারকে আগলে রাখেন। অবলীলায় নিজের ছোটো থেকে বড় এমন হাজারো ইচ্ছের অপমৃত্যু ঘটিয়ে দেন হাসিমুখেই !

যদি সৃষ্টিকর্তার দানের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতাবোধ করি, বাবা-মা-ভাই-বোনের ত্যাগের বীপরিতে আমরা কৃতজ্ঞতাবোধ করি; তবে যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একজন মানুষ অন্য একজন মানুষের অতীত না জেনে, ভূত-ভবিষ্যৎ না ভেবেই নিজের জীবনটাকে মানুষটার জীবনটার সাথে জড়িয়ে নিলো, কোনোরকম কোনো রক্তের সম্পর্ক না থাকার পরেও কেবল আত্মিক বন্ধনের নিমিত্তে একে অন্যের জন্যে ওমন বড় বড় বলিদান করতে প্রস্তুত হয়ে গেলো; সেই সম্পর্ক কি এত ঠুনকো হতে পারে ? সেই সম্পর্ককে যেনো স্রেফ একটা 'অভিলাষ' বলেই চালিয়ে দেওয়া যায়। যখন ইচ্ছে হয় মনের দোহাই দিয়ে একে অন্যকে ছেড়ে চলে যাওয়া যায় ! বেশিভাগ সময়ই চলে যাওয়া মানুষটা যাবার বেলায় রেখে যাওয়া মানুষটার দিকে ফিরেও তাকান না !

মানুষের মনতো? ঋতুর চাইতেও দ্রুত পালটায়। তা সে হতেই পারে !

কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাবা-মা-পরিবার ও রক্তের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৃতজ্ঞতাবোধ-ত্যাগ এই অনুভূতিগুলো যদি আমাদের এত ভাবায়, তবে স্বামী কিংবা স্ত্রীর ত্যাগের প্রতি কেনো আমরা এত উদাসীন। কেনো সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে 'কৃতজ্ঞতা' নামক বোধটি আমাদের মাঝে জেগে উঠে না ! কেনো সেই অঙ্গীকারকে সহজেই অস্বীকার করার প্রচলনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি আমরা !

কেনো অধুনাকালে একে অন্যের জন্যে করা ত্যাগের দিকে তাকানোর চাইতে একে অন্যকে 'ত্যাগ' করার ক্ষেত্রেই আমরা অতি উৎসাহী হয়ে উঠছি ?

Like
Comment
Share

No comments:

মায়ের মানসের অনাময

ধরুন সকালে ঘুম ভাঙ্গা থেকে আরম্ভ করে ঘুমুতে যাবার সময় পর্যন্ত, এবং পুরো ঘুমের সময়টাতেও আপনি অনুভব করলেন কেউ আপনার পেছনে লেজের মতন করে একটা দ...