Monday, June 13, 2022

বিয়ে

বলছি আমার এক পরিচিত ভদ্রলোকের কথা, ভদ্রলোক হন্যে হয়ে বিয়ের পাত্রী খুঁজছেন ।

ঘটনার গভীরে যাওয়ার আগে সুপাত্র ভদ্রলোকটি সম্পর্কে একটু জেনে নেওয়া যাক ।
ভদ্রলোক পেশায় ডাক্তার, উচ্চশিক্ষিত, পোশাকে- আসাকে ছিমছাম, দেখতে রাজপুত্তুর না হলেও সমাজে ত্রিশোর্ধ্ব মোটা ভুঁড়ির একজন সম্পদশালী সজ্জন !
ভদ্রলোকের বিয়ে করার ভীষণ তাড়া !
স্ত্রীকে মায়ের হাতে সঁপে দিয়ে উচ্চতর ডিগ্রীধারী হওয়ার উদ্দ্যেশে যেতে হবে সুদূর সুইজারল্যান্ড না কোথায় যেনো ।
হাতে সময় নেই একেবারেই !
তাঁর আত্মীয়ার কাছেই জানতে চাইলাম ;
তা ওনার আগের স্ত্রী চলে গেলেন কেনো ! শুনেছি বিয়ে হয়েছে বেশি দিন হয়নি ?
আত্মীয়াঃ আর বলবেন না ! লেখাপড়া করলেই কি আর মানুষ মানুষ হয় ? (উল্লেখ্য, আগের স্ত্রী পেশায় একজন ডাক্তার ছিলেন)
কি করেছিলেন উনি ?
আত্মীয়া: (তার ভাষাতেই) সকালে বের হইতো বিকালে আসতো, যেইদিন সারাদিন বাসায় থাকতো, সেইদিন রাতে চলে যাইতো। আর পরের দিন ফিরে সারাদিন ঘুমায়তো। বাপ মা মানুষ করতে পারে নাই বুঝছেন। শ্বশুড়বাড়ির কারো প্রতি কোনো খেয়াল ছিলো না। বাবুটার (স্বামী ভদ্রলোক) উপরও টান ছিলো না ! নিজেরে নিয়া থাকতো ।
রান্না করতো ?
আত্মীয়া: করতো তো ! বাসায় থাকলে সবই করতো ।
এই যে বললেন ঘুমাতো ?
আত্মীয়া: বেশিক্ষণ ঘুমায়তো না। উইঠাই রান্না করতো, বাবুর জন্য টিফিন করতো, কাপড় ধুইতো, ঘরটরও গুছায়তো। কিন্তু মেয়ে মানুষের এতো বাইরে যাওয়ার দরকার কি ! আর বয়সটা একটু বেশি ছিলোতো (২৬,ভদ্রলোকের ৪ বছরের ছোট কিন্তু) যুক্তি দেখায়তো ।
বাবুতো অনেক টাকা কামায় ! শ্বাশুড়ির সাথে ঘরে থাকবে, গল্প করবে, একটু সেজেগুজে থাকবে, পর্দা করবে, স্বামীর সেবা করবে ; এই না হইলে বউ ?
তাহলে ডাক্তার বিয়ে করালেন কেনো ? এরকম মেয়েতো সমাজে ঢের আছে ! এইচএসসি পাশ সাদা চামড়া দেখে বিয়ে করালেই পারতেন ।
আত্মীয়াঃ ছেলে এতো বড় ডাক্তার, একটা ডাক্তার মেয়ে না হইলে কি হয় ? বাবুর প্রায় বন্ধুদের স্ত্রীরাইতো ডাক্তার। এজন্য বাবুই ডাক্তার মেয়ে চাইছে । কে জানতো মেয়ে এমন হবে !!!
ডিভোর্সটা কে দিলো ?
আত্মীয়াঃ (মুখ বাঁকিয়ে) ডাক্তারনীটা
মেয়ে কেমন ছিলো বা তারা এখন কেমন মেয়ে আশা করছেন, সেই কথাগুলো আর শুনতে ইচ্ছে হলো না। আসলে রুচিতেই আসছিলো না।
কিন্তু শেষ উত্তরটা শুনে নিজের অজান্তেই মুখ ফসকে বেরিয়ে এলো, "বেশ করেছেন " ।
তবে এটুকু বুঝতে পারলাম, এ সমাজে বাবুরা সুশিক্ষিত হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু স্বশিক্ষিত হচ্ছে না !
সমাজে এখন ডিভোর্সের সংখ্যা বাড়ছে, আগে ডিভোর্স মানেই মনে হত নারীকে মুষ্টিবদ্ধ করার জন্যে পুরুষের এ এক মহান হাতিয়ার !
কিন্তু এখন স্ত্রীরাও স্বামীদের ডিভোর্স দিচ্ছে !
যদিও ভাঙ্গন কখনই ভালো নয় ।
তবে পচে যাওয়া আঙ্গুল বয়ে নিয়ে কষ্ট পাওয়ার চাইতে তা কেটে ফেলাই কি মঙ্গলজনক নয় ?

No comments:

মায়ের মানসের অনাময

ধরুন সকালে ঘুম ভাঙ্গা থেকে আরম্ভ করে ঘুমুতে যাবার সময় পর্যন্ত, এবং পুরো ঘুমের সময়টাতেও আপনি অনুভব করলেন কেউ আপনার পেছনে লেজের মতন করে একটা দ...