Saturday, June 18, 2022

প্রিয় শৈশব

প্রিয় শৈশব,

তুমি ভালো থেকো । তোমার আধিপত্য যখন আমার জীবন জুড়ে; আমি তোমাকে বুঝিনি, তুমি আমাকে ক্ষমা ক'রো ।


বিধি-নিষেধের বেড়াজালে হাঁপিয়ে ওঠা আমি কত-শত শাপ-শাপান্ত করেছি তোমাকে, মুহূর্তে সহস্রবার তোমাকে অতীত করতে চেয়েছি ।

অথচ সেই তুমিই ছিলে সকল বাঁধা এক লহমায় ডিঙোনোর আমার একমাত্র শক্তি ।

জীবনের পথে আনকোরা পথচারী আমি সেদিন উপলদ্ধি করতে পারিনি তোমার অদম্য সামর্থ্য, অপচিত হয়েছো তুমি আমার হেলা-ফেলায় । 


আজ হয়ত বিধি-নিষেধের শৃঙ্খলে আমি বন্দি নই, কিন্তু সেই "বিধি-নিষেধ" আজ আমার জীবনে এসেছে "নীতি-নিয়ম-নৈতিকতা" হয়ে । আজ আর তুমি নেই, বাঁধা ডিঙ্গোনোর অদম্য সাহসও আমার নেই; তাই আজ আমাকে অবদমিত হতে হয়েছে, আজ আমিই হয়েছি অসার-অলীক সেইসব নীতি-নৈতিকতার একান্ত অনুগত একজন । 


প্রিয় শৈশব; 

আমার জীবনকে তুমি আধিদৈবিক সব ক্ষণে পরিপূর্ণ করে তুলেছিলে, প্রণয়াবেগের প্রথম ক্ষণের শ্রেষ্ঠ অনুভূতিতে হৃষ্ট করেছিলে আমার হৃদয়াকাশ, তোমার হৃষিত প্রশ্রয়ে দুরন্ত হয়ে ওঠা আমি পদদলিত করেছি সবুজ মাঠ-পড়ন্ত বিকেল-নীলাকাশ-কাশফুল-নদীর তীর-ছেড়াপালের নৌকো-বর্ষার বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যা, আরো আরও কতো কি !

কি সখ্যতাই না গড়ে দিয়েছিলে তাদের সাথে তুমি আমার !


আজ তুমি সত্যিই অতীত হয়েছো আমার জীবনে, সাথে নিয়ে গেছো আমার জীবনে তোমার দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহারগুলো ।


তবুও তুমি ভালো থেকো ।

ভালো থেকো,

প্রিয় শৈশব আমার ।


নিজ সন্তানের দায়িত্ব নিজ মাতার উপর চাপিয়ে দেওয়া কতটা যৌক্তিক ?

আমার সামনের সিটে বসা আপুটি সম্ভবত সদ্য কোনো চাকুরিতে নিয়োগ পেয়েছেন, পোস্টিং চট্টগ্রামের বাহিরে কোনো এক গ্রামে বা মফস্বলে। 

নিশ্চয় সরকারি চাকুরি, না হলে অমন সাধ করে কে'ই বা গ্রামগঞ্জে যেতে চান ! 

তারই পাশে আরেকজন আপু, তারা দু'জন সম্ভবত বান্ধুবী সম্পর্কীয়। তাদের অতি উচ্চস্বরের আলাপন অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমার কর্ণকুহরে প্রবেশ করার দরুন আমি অত্যন্ত অনাবশ্যকবশত তাদের আলাচারিতা শুনতে পাই এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হই। 

" তোর পোস্টিং তো *** জায়গায়, ওখানে তোর মেয়েকে নিয়ে যাবি কিভাবে?  ভালো স্কুলও নাই ! "

" নিবো নাতো ** কে  ! "

'' তাহলে ? " (অবাক হয়ে বান্ধুবি প্রশ্ন করলো) 

'' আম্মার কাছে থাকবে! '' (যেনো অতি সাধারণ একটা ব্যাপার) 

(এবার বান্ধুবিটি অতি আস্ফালনের সাথে নিজের কষ্টের ঝুলি মেলে বলা শুরু করলেন)

" তোর আম্মাতো অনেক ভালো, আমার আম্মাতো কোনোরকম বিয়ে দিয়েই শেষ, নিজে এখন ঘুরে বেড়ায়, কিছুদিন বড় ভাইয়ের কাছে আমেরিকা যায়, আবার দেশে এসে ছোটো ভাইয়ের সাথে কিছুদিন থেকে আবার চলে যায় বড় ভাইয়ের কাছে। "

এতটুকু শোনার পর আমি নিজেই উপযাচক হয়ে সিট পাল্টে দূরে গিয়ে বসলাম, কেনো যেনো তাদের এই আলাপন আর শুনতে ইচ্ছে হচ্ছিলো না। 

প্রসঙ্গত; আমাদের দেশের নারীরা এখন শিক্ষিত হচ্ছেন, ডাক্তার- ইঞ্জিনিয়ার- উকিল - পুলিশ - ম্যাজিস্ট্রেট - সাংবাদিক - পাইলট - ব্যাংকার; এমন সব সম্মানজনক পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করছেন, অর্থ উপার্জন করছেন। 

বেশ ভালো। 

কিন্তু নিজের মা'কে তাঁর সত্যিকারের 'দেয়টুকুন' দিতে পারছেন তো ? 

সেই মা, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যিনি নিজে শিক্ষিত হতে পারেননি বলে নানান গঞ্জনার শিকার হয়েছেন বিধায় নিজের মেয়েকে মানুষ হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মানটুকু আদায় করে দেওয়ার জন্যে নিজের কিশোরীবেলা-তরুণীকালের সকল সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য-আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে দিয়েছেন। 

এদেশে একটা ছেলে যখন ডাক্তার হয়, ব্যাংকার হয়, বড় চাকুরে হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই 'ছেলের' মায়ের চাকুরিজীবী ছেলের সন্তানদের নিয়ে অতো ভাবতে হয় না !  

বরঞ্চ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিনি বেশ আরাম আয়েশেই জীবন পার করে দেন।

কিন্তু একজন নারী যখন ব্যস্ত কোনো পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন, তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়ের জন্য সর্বোচ্চ 'সেক্রিফাইস'টি করতে হয় 'মেয়ের মা'কেই । 

পৌঢ়কালেও তাঁকে নাতি-নাতনীদের দেখভালের দায়িত্ব নিতে হয়। 

আর এখানেই সমাজে 'ছেলের মা' আর 'মেয়ের মা' এর মধ্যে বিস্তর তফাৎ লক্ষ্য করা যায় । 

আমাদের কাছে মা মানেই যেনো নিজের 'পিতার কেনা আজীবনের ভোগের সম্পত্তি', শুনতে কটু হলেও ক্ষেত্রবিশেষে এটাই সত্য। সন্তানের জন্যে আমৃত্যু নিজেকে বিসর্জন করে যাওয়াই যেনো মানুষটার জীবতকালের একমাত্র লক্ষ্য !  আকারে-প্রকারে-অবস্থায় সময়ের সাথে সাথে ছেলে-মেয়ে উভয়েই আমরা পাল্টালেও ভাবনার জায়গায়টায় কোথায় যেনো বুনোই থেকে গেলাম !

তা না হলে, সেই দুজন আপুর একজনের কথা ধরেই যদি বলি; নিজ মায়ের স্বাধীন-সুখী জীবন নিয়ে তিনি এতটাই অসন্তুষ্ট যে তার মা কেনো তার বান্ধুবির মায়ের মতন নিজের জীবনের শেষসময়টুকুও মেয়ের সন্তানদের জন্যে উদ্বাসন করছে না, সেই আস্ফালনে আপুটি মুখিয়ে উঠেছেন !  

তাহলে সমাধানটা কি ?

সমাধান খুবই সহজ। 

একজন চাকুরিজীবী নারীর সন্তানের প্রতি সেই নারীর মায়ের যে পরিমাণ দায়িত্ব, তার চাইতেও দ্বিগুণ দায়িত্ব বর্তায় সেই নারীর শ্বাশুড়ির উপর। কেননা, আমাদের সমাজ পুরুষতান্ত্রিক হওয়ার দরুণ একজন পেশাজীবি নারীর আয়ের বেশিরভাগংশই ভোগ করেন তার স্বামী ও স্বামীর পরিবার (ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্ন হতে পারে)।

এছাড়াও সন্তানেরা যেহেতু পিতার পারিবারিক পরিচয়েই বেড়ে ওঠে এবং সে পরিচয়কেই ধারণ করে, সে মোতাবেকও সন্তানের প্রতি সন্তানের পিতার পরিবারের দায়িত্বই বেশি বলা চলে। তবে সেক্ষেত্রেও ছেলের মা কিংবা পরিবার দায়িত্ব নিতে কতটুকু উৎসুক, সেটিও দেখবার বিষয়। 

তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব সেই কর্মজীবী নারী এবং তার স্বামীর। বিয়ের আগেই তাদের উচিত সন্তানের দায়িত্ব সম্পর্কে সঠিক ও সমীচীন সিদ্ধান্ত নেওয়া।

'মেয়ের মা' বয়োজ্যেষ্ঠ বা অসুস্থ হয়েও নিজে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব নিতে চাইলেও তাঁর কাঁধে দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এদিকে,  তিনি সুস্থ-সবল-সামর্থ্যবান হয়েও যদি মেয়ের সন্তানদের দায়িত্ব নিতে না চান তবে তাঁকে 'চক্ষু লজ্জায় ফেলে', 'ইমোশন্যাল ব্লেকমেল' করে তাঁর কাঁধে এমন কর্তব্যবন্ধন আরোপ করাও অনুচিত।


তাই একজন কর্মজীবী নারীর মা'এর উপরই সবসময় সেই নারীর সন্তানদের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। যদি দায়িত্ব দিতেই হয় তবে তার সাথে সেই নারীর আয়ের বেশিরভাগ অংশও দিতে হবে 'মেয়ের মা'কে'ই । আর এ ব্যাপারে একজন কর্মজীবী নারীর স্বামীকেও উদার দৃষ্টিভঙ্গির অনুসারী হতে হবে। 


পুণশ্চঃ ; ভাইয়ারা এবং ভাইয়াদের পরিবার, আপনারা একজন নারীকে 'চাকুরি করতে দিয়ে' মোটেও মহৎ কোনো কাজ করে ফেলছেন না। নিজের পছন্দমতন জীবন বেছে নেয়া মানুষ হিসেবে একজন নারীর জন্মগত অধিকার। 

তাই 'গাছেরও খাবেন, তলারও কুঁড়োবেন' সেই পুরাতন ধ্যানধারণা থেকে বেড়িয়ে এসে নিজের বিবেককে জাগিয়ে তুলে তবেই সিদ্ধান্ত নিন ।।

সত্যিকারের বাবা

বৃষ্টি নেই কিন্তু দমকা বাতাসে বিতিকিচ্ছিরি এক অবস্থা !  আমি দাঁড়িয়ে আছি চৌরাস্তার মোড়ে, আশেপাশে আশ্রয় নেবার মতন দোকান কিংবা 'অভিভাবক শ্রেণির গাছ' কিছুই নেই ! 

শুধু আছেন এক ষাটোর্ধ্ব রিক্সাচালক চাচাজান আর তাঁর রিক্সা। চাচাজান বারবার অনুরোধ করছেন, 'রিক্সায় চাপেন আম্মা, আপনারে বাসের ধারে দিয়া আসি'। 

আমার ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছিলো, এরকম একটা আবহওয়ায় এই বয়সী একজন মানুষকে এভাবে কষ্ট দিবো !  অগত্যা আর কোনো উপায় না দেখে আর চাচার অত্যন্ত স্নেহমিশ্রিত অনুরোধের কাছে হার মেনে নিয়ে রিক্সায় চেপে বসলাম। 

এদিকে; কিছুটা কৌতুহল আর খানিকটা আবেগবশত হয়ে চাচাকে জিজ্ঞাসা করে বসলাম, 'আপনার ছেলে মেয়ে নাই ?  এই বয়সে এত কষ্ট করে রিক্সা চালান ?' 

চাচা উত্তরহীন, নিশ্চুপ।

আমি একটু থেমে আবারও শুধালাম, 'আপনার ছেলেমেয়েরা দেখেনা আপনারে?' 

চাচা এবারও উত্তরহীন। তাই আমিও চুপ হয়ে গেলাম, মনে মনে খারাপ লাগছিলো, এই ভেবে যে; মানুষটার স্নেহের সুযোগ নিয়ে অনধিকারচর্চা করে বসলাম।

বেশকিছুক্ষণ পরে, যখন আবহওয়া কিছুটা অনুকূলে এলো, চাচা নিজ থেকেই কথা বলা শুরু করলেন।

যার সারসংক্ষেপ এমন, যৌবনে তিনি বিয়ের পর বিয়ে করে গেছেন, পরকীয়াও করেছেন। এদিকে প্রথম বউ, দ্বিতীয় বউ; এমনকি শেষ বউটার সন্তানের দায়িত্বও তিনি নেন নাই (বউয়ের সন্তান, নিজের নয় কিন্তু)। এদিকে যাদের সাথে পরকীয়া করেছেন তাদের কেউ কেউ অন্তঃসত্ত্বা হওয়ামাত্র তিনি কেটে পরেছেন, পরে আর খোঁজ নেন নাই। 

টাকা উপার্জন করে জুয়া খেলেছেন, বিড়ি টেনেছেন; মোদ্দাকথা জীবনকে 'উপভোগ' করেছেন। আর তার সেই কু-কৃতকর্মের (তার ভাষায়) কুফল তাকে এই বয়সে এসে ভোগাচ্ছে। 

তার তিন স্ত্রীর ঘরে মোট ক'জন সন্তান তিনি জন্ম দিয়েছেন তার সুনির্দিষ্ট হিসেবও তার নেই ! তবে প্রথম স্ত্রীর বড় দুই ছেলে সন্তান নাকি তার নেউটা ছিলো ভীষণ। বাবা বাবা করে তার জন্যে পাগল হয়ে থাকতো ! তিনিই তাদের উপেক্ষা করেছেন, অবহেলা করেছেন।

ঘটনা শেষে তিনি ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন,

আজ তার অপরাধবোধ হয় ভীষণ ! যদি যৌবনে জীবনের লাগাম টেনে ধরতেন তাহলে এই বয়সে এসে তিনি নিশ্চয় একটা সম্মানের জীবন পেতেন।

চাচার কপোল বেয়ে অশ্রু ঝরে। 

আশ্চর্যান্বিত আমি ভাবি, জীবন তাকে ভুগিয়েছে বলেই আজ তার মাঝে বোধ জেগেছে। সবার মাঝে শেষ জীবনে হলেও সত্যিই কি এমন বোধ জাগে ? 


এ সমাজে একজন নারী যখন 'মা' হোউন; তা তিনি ষোড়শী-তরুণী-যুবতী-ধনী-গরীব যাই হোউন না কেনো, নিজের সাধ-আহ্লাদ সবকিছু বিসর্জন দিয়ে সমাজ তাকে দেবীরূপে মায়ের আসনে অধিষ্ঠিত করে। আর একজন পুরুষ যখন পিতা হোউন তিনি পিতা কম পুরুষই থাকেন বেশি, আর সমাজের কাছে তাই'ই সই ! 

আর এজন্যই সম্ভবত এই সমাজের লক্ষাধিক সন্তান নিজের পিতার কাছে নিজেরই মা'কে দিনের পর দিন অপদস্ত-অবহেলিত হতে দেখে, এমনকি কেউ কেউ মার খেতে দেখেও অন্ধভাবে নিজের পিতার শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করে ! 


এদেশের 'বাবা'রা সত্যিকারের বাবা হয়ে উঠুন। এদেশের বাবারা শুধুমাত্র নিজের সন্তানের চোখে 'ভালো বাবা' হওয়ার আগে ভালো মানুষ হয়ে উঠুন। এদেশের বাবারা 'শরীর সর্বস্ব পুরুষ' না হয়ে সত্যভানে একজন আন্তরিক বাবা হয়ে উঠুন। 

ভালোবাসি তোমায়

আমি পদ্মলতা

তীরন্দাজ,

তুমি কি ছোবে আমায় ?


আমি যে এক উদাসীন কবির কবিতা,

আমার সঙ্গে কভু হয়নি কারো সমঝোতা

হয়নি কারো মিত্রতা,

  

     আমি পাষণ্ড

     আমি বিভাচারী


সবার সঙ্গে হয়েছে যে মোর আড়ি,

নিঃস্ব এ জীবন অভিসম্পাত করে আমায়,


তাইতো ভয় হয় বলতে ;

     ভালোবাসি তোমায় ।


আমি নারী ;

রহস্যময়ী

কখনো আমি কোমল

কখনোবা মৌন,

পাহাড়ের ন্যায় 


তবুও হৃদয় আমার মমতাময়ী,

আমি জানি ভালোবাসতে,

ভালোবেসে সর্বস্ব উজাড় করে দিতে ;


তবুও কি ছোবে আমায় ?

        হে তীরন্দাজ

        অবুঝ আমি 

        ভালোবাসি তোমায় ।


মন আজ বিষন্ন,

ডুকরে কেঁদে ওঠে হৃদয়

দু'চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে,


শূন্যতা; শুধুই শূন্যতা

আজ মনের আকাশে,


হৃদয়ে চাপা কষ্ট কিংবা অভিমান,

ভুলে যেতে ইচ্ছে করে সব অপমান,


এর নামই কি ভালোবাসা !


এ যে কেবলই মরিচীকা আর মিথ্যে আশা ।।


১৩ মাঘ ১8১৭  (২০১০)

অতিপ্রাকৃত কথন

মৃত্যুর পর যে মানুষ বেঁচে ওঠেন না, তিনি আসলে কখনো বেঁচেই ছিলেন না !  

মৃত্যুর পরই সম্ভবত একজন মানুষের সত্যিকারের জীবন শুরু হয়; পরকাল নয়, পার্থিব জীবনই। খানিকটা বাতুল শোনালেও সম্ভবত এটিই অমেয় সত্য। সদ্য দেহান্তরিত মানুষটিকে নতুনভাবে চেনা যায়, এমনকি 'নতুন' তাকে খুঁজে পান তার কাছের মানুষেরাও ! 

একজন ব্যক্তি যদি তার জীবদ্দশায় খারাপ কর্ম করে বেড়ান, তা সে তিনি তার ক্ষমতাবলে তার কুকীর্তিসমূহ যতই গোপন করুন না কেনো, দেহত্যাগান্তর তার কৃত সে সকল অশিব কর্মের কথা প্রকাশ পাবেই এবং তা পরিবর্তনের কোনো সুযোগও তার থাকবে না। 

অনন্ত নিদ্রাযাপনের মুহূর্ত থেকে পরিচিত-অপরিচিত-স্বল্পপরিচিত-ঘনিষ্ট সকল লোকের স্মৃতিতে আজীবন তিনি অপকৃষ্ট ব্যক্তি হয়েই বেঁচে থাকবেন। 

অন্যদিকে, ব্যক্তি গোপনে ভালো কাজ করলেও ব্যক্তির অন্তর্ধানান্তর তা ঠিক প্রকাশ পাবে। এবং সেটিই হবে সেই মানুষটির শেষ পরিচয়।  আত্মিকভাবে পার্থিব জীবনে লোকের স্মৃতিতে তিনি চিরন্তন বেঁচে থাকবেন প্রেয় এবং প্রিয় ব্যক্তি হয়ে। 


সত্যিকারার্থে; মানুষ দেহে বাঁচে না, মানুষ বাঁচে আত্মায়। 

একজন মানুষ দেহত্যাগের পর সেই মানুষটির পরিচিত এবং তার জীবনের সাথে যুক্ত মানুষগুলো তাকে কিভাবে স্মরণ করছেন, তাকে নিয়ে ঠিক কেমন স্মৃতি রোমন্থন করছেন, লোকের স্মরণে পার্থিব জীবনে

আত্মিকভাবে আজীবন তিনি কিভাবে বেঁচে রইবেন; 

তার মাঝেই সম্ভবত একজন মানুষের জীবনের চূড়ান্ত সার্থকতা নিহিত থাকে  ।।

মায়ের মানসের অনাময

ধরুন সকালে ঘুম ভাঙ্গা থেকে আরম্ভ করে ঘুমুতে যাবার সময় পর্যন্ত, এবং পুরো ঘুমের সময়টাতেও আপনি অনুভব করলেন কেউ আপনার পেছনে লেজের মতন করে একটা দ...