মৃত্যুর পর যে মানুষ বেঁচে ওঠেন না, তিনি আসলে কখনো বেঁচেই ছিলেন না !
মৃত্যুর পরই সম্ভবত একজন মানুষের সত্যিকারের জীবন শুরু হয়; পরকাল নয়, পার্থিব জীবনই। খানিকটা বাতুল শোনালেও সম্ভবত এটিই অমেয় সত্য। সদ্য দেহান্তরিত মানুষটিকে নতুনভাবে চেনা যায়, এমনকি 'নতুন' তাকে খুঁজে পান তার কাছের মানুষেরাও !
একজন ব্যক্তি যদি তার জীবদ্দশায় খারাপ কর্ম করে বেড়ান, তা সে তিনি তার ক্ষমতাবলে তার কুকীর্তিসমূহ যতই গোপন করুন না কেনো, দেহত্যাগান্তর তার কৃত সে সকল অশিব কর্মের কথা প্রকাশ পাবেই এবং তা পরিবর্তনের কোনো সুযোগও তার থাকবে না।
অনন্ত নিদ্রাযাপনের মুহূর্ত থেকে পরিচিত-অপরিচিত-স্বল্পপরিচিত-ঘনিষ্ট সকল লোকের স্মৃতিতে আজীবন তিনি অপকৃষ্ট ব্যক্তি হয়েই বেঁচে থাকবেন।
অন্যদিকে, ব্যক্তি গোপনে ভালো কাজ করলেও ব্যক্তির অন্তর্ধানান্তর তা ঠিক প্রকাশ পাবে। এবং সেটিই হবে সেই মানুষটির শেষ পরিচয়। আত্মিকভাবে পার্থিব জীবনে লোকের স্মৃতিতে তিনি চিরন্তন বেঁচে থাকবেন প্রেয় এবং প্রিয় ব্যক্তি হয়ে।
সত্যিকারার্থে; মানুষ দেহে বাঁচে না, মানুষ বাঁচে আত্মায়।
একজন মানুষ দেহত্যাগের পর সেই মানুষটির পরিচিত এবং তার জীবনের সাথে যুক্ত মানুষগুলো তাকে কিভাবে স্মরণ করছেন, তাকে নিয়ে ঠিক কেমন স্মৃতি রোমন্থন করছেন, লোকের স্মরণে পার্থিব জীবনে
আত্মিকভাবে আজীবন তিনি কিভাবে বেঁচে রইবেন;
তার মাঝেই সম্ভবত একজন মানুষের জীবনের চূড়ান্ত সার্থকতা নিহিত থাকে ।।
No comments:
Post a Comment