Tuesday, June 14, 2022

সমাপ্তি

কেমন আছো ? 

এখনো কি তোমার চুলগুলো থাকে আগোছালো, 

এখনো কি তুমি সেই আগের মতই এলোমেলো ? 


একদিন, দু'দিন, এক সপ্তাহ, দু'সপ্তাহ; 

এমনি করে সাতটি বছর কেটে গেল ! 

কতদিন তোমায় দেখিনি, 

এতো চেনা তুমি মুহূর্তেই অচেনা হয়ে যাবে ; 

কখনো ভাবিনি । 

কি অদ্ভূত সুন্দর ছিল সেইসব দিনগুলো ! 

স্বপ্নগুলো আজও জীবন্ত ,  

 "মেয়ে হলে বন্যা 

আর ছেলে হলে প্রান্ত" । 


থাক সে সব অতীতের কথা 

এবার তোমার কথা বলো, 

কেমন আছো তুমি ? 

শুনেছি এখনো একাই আছো, 

মাঝে মাঝে শুভদার দোকানে আসো, 

তাইত বার বার শুভদার কাছে ছুটে যেতাম; 

তোমার কথা জানতে চাইতাম, 

আর হতাশ হয়ে ফিরে আসতাম । 

যখন আমার জিজ্ঞাসু চোখের প্রত্যুত্তরে শুভদার আনত নয়ন বুঝিয়ে দিত, 

একটিবারও জানতে চাওনি তুমি, 

কেমন আছি আমি ? 


কেন জানতে চাওনি ! 

আমি অন্য পুরুষের বাহুতে নিজেকে সমর্পণ করেছি বলে, 

প্রাচুর্য্যের দেয়ালে ঘেরা বাড়ীতে আমার বসবাস বলে ! 

তবে কি তুমি আমায় ঈর্ষা করো ? 

তোমার মনে কি তবে আজ প্রশ্ন জাগে , 

আমি বড় না তুমি বড় ? 

এই তুমি কি সেই তুমি ? 

আমার এতটুকু ব্যর্থতা এতটুকু কষ্ট যার সইত না , 

থাক এসব কথা; 

তুমি কেমন আছো বলো ? 

আজ আমার সেই কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি আছে, 

যার দরকার ছিল সাতটি বছর আগে । 


সাদা থান গায়ে জড়াবার পরে 

আমি অর্ধ-স্বাধীন, 

বাবা মারা যাবার পর 

আমি মুক্ত বিহঙ্গ, 

নই আর পরাধীন । 


স্বামীর মৃত্যুতে অসহায় হয়েছি বটে, 

তবে সেই অনাকাঙ্খিত মৃত্যু স্বস্তি দিয়েছে আমাকে । 

বাবা বিয়ে দিয়েছিলেন বড় ঘর দেখে, 

বিয়ে দিয়েছিলেন অর্থ,খ্যাতি আর প্রতিপত্তির সাথে । 

তার মাঝে চাপা পরা আস্ত এক জানোয়ার, 

দমবন্ধ করা সেইসব দিন গুলোর কথা নাই বা বলি তোমায় আর। 


এখন আমি অনেক ভাল আছি, 

ইচ্ছে মতন তোমায় ভালোবাসি । 

কারো বাহুতে আর অনিচ্ছাকৃত দেহ সমর্পণ করতে হয়না, 

দেহ না পেলে মারে না কোন হায়না । 

শরীর তার কুমারিত্ব হারিয়েছে কিন্তু মনটা সেই আগের মতই আছে। 

সেই তোমারই আছে 

সাতটি বছর আগে যেমন ছিল 

কেউ ছুঁতে পারেনি একবারও । 


অনেক কথা বলা হয়ে গেল, 

তুমি ভাল আছো কিনা বল ? 

এখনো কি তুমি খুব ভোরে 

আমার জন্য শিউলি ফুল কুঁড়াও ? 

এখনো কি তুমি আমার নামে 

মুক্ত আকাশে লাল ঘুড়ি ওড়াও ? 


থাক কিছু বলোনা 

আমি জানতে চাইনা । 

ভয় হয়, যদি উত্তর পাই 

আমার কথা তোমাকে আর ভাবায় না । 


থাক সেসব কথা, 

আর বাড়াবোনা তোমার ব্যথা । 

তুমি ভালো থেকো 

নিজের খেয়াল রেখো । 


মাঝে মাঝে মসজিদের পাশের 

সেই বাঁশঝাড়ে এসো । 

আমার পাশে বসো, 

আমায় একটু ছুঁয়ে দিও, 

তৃষ্ণার্ত আমায় একটু তৃপ্ত করো ; 

আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব । 


তুমি ভালো থেকো । 

ইতি 

তোমার সমাপ্তি ।।

No comments:

মায়ের মানসের অনাময

ধরুন সকালে ঘুম ভাঙ্গা থেকে আরম্ভ করে ঘুমুতে যাবার সময় পর্যন্ত, এবং পুরো ঘুমের সময়টাতেও আপনি অনুভব করলেন কেউ আপনার পেছনে লেজের মতন করে একটা দ...