Saturday, July 9, 2022

বাঙালি নারীর 'ব্যক্তি-অনধীনতা'

'ব্যক্তি স্বাধীনতা' আসলে কি ? 
আদতে এদেশে নারীদের 'ব্যক্তি স্বাধীনতা' আছে কি ? 
ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন, চাকুরিতে যোগদান, অর্থ উপার্জন; এ সকল বিষয় একজন নারীর জীবনে আদৌ 'ব্যক্তি স্বাধীনতা' এনে দিতে পারে কি ? রাস্তায় যারা ইট ভাঙ্গছেন তাদের মাঝে এমন অনেক স্বাধীনচেতা নারীদের দেখা যায়, যাদের স্বামীদের কিংবা পরিবারের অতটুকুন সাহস হয় না স্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলানোর। 

অন্যদিকে, সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী এমন অনেক নারীদের দেখা যায় যারা নিজের ও স্বামীর পরিবার কিংবা স্বামীর কথার বাহিরে খুঁটোটি নাড়বার সাহসটুকুনও রাখেন না ! ভারতীয় উপমহাদেশে আবহমান কাল জুড়ে থাকা সংস্কৃতি অনুযায়ী শিশু থেকে যৌবনকাল পর্যন্ত নারীকে তার জীবনের প্রতিটি বিষয়ের ব্যাপারে পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয় এবং তার কৃতকর্মের জন্য পরিবারের কাছে জবাবদিহিতা করতে হয়। একইভাবে সেই নারী যদি কোনো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হোউন, তবে অনুরূপভাবে তার পরিণত জীবনাকালেও কোথাও যেতে হলে, কিছু করতে হলে তাকে কেবল তার স্বামীর কাছেই নয়, শ্বশুর-শ্বাশুড়িসহ পরিবারের প্রায় প্রত্যেকের সদস্যের কাছে 'অনুমতি প্রদানের আবেদনপত্র' দাখিল করতে হয়, সেই আবেদনপত্র আবার তাদের মন-মতি-মর্জি মতন মঞ্জুর হতে পারে, আবার খারিজও হতে পারে ! এভাবেই দেখা যাচ্ছে, একজন নারী শিশু থেকে যৌবনকালোবধি বাবা-মা তথা নিজের পরিবার, পরিণত বয়সে স্বামী ও সেই স্বামীর পরিবারের দ্বারা এবং শেষ বয়সে নিজ সন্তানের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হোউন। 

অন্যদিকে; যদি কোনো নারী স্বেচ্ছায় কোনো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ না হোউন, তারও কি শেষ রক্ষা মেলে জবাবদিহিতার ওমন খুঁতেল সংস্কৃতি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে নেওয়ার ? 'কেনো-কোথায়-কখন-কিভাবে-কেনো না-কি কারণে'; এই প্রশ্নগুলো প্রতি মুহূর্তে তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় ! তাই বলা চলে; এদেশের বেশিরভাগ নারীরই জীবন কেটে যায় 'জবাবদিহিতা আর অনুমতি গ্রহণের' বেড়াজালে। 

নারীর ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার এই বিতিকিচ্ছিরি সংস্কৃতি বয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে সমাজ ও পরিবারের একটি 'অনুত্তম' উত্তর বা খোঁড়া যুক্তি হলো; নারীর নিরাপত্তা । 

দারুণতো ! 

বনের পাখিকে নিরাপত্তার খাতিরে আর যত্নের দোহাই দিয়ে খাঁচায় পুড়ে রাখাটা যদি কোনো জাতির নিকট যৌক্তিক হয়, তবে অনায়াসেই বলা চলে, হয় সে জাতি 'অস্বভাবী' কিংবা নেহাতই 'বৈড়ালব্রতী'। যদি সত্যিই কেউ বনের পাখির যত্ন নিতে চায় আর তার নিরাপত্তা নিয়ে ভাবে, তবে তার জন্যে অভয়ারণ্য তৈয়ার করা প্রয়োজন, যেখানে সে নিরাপদে কিন্তু নিজের মনের মতন বিচরণ করতে পারবে। 

কারো নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তাকে কুক্ষিগত করার আভ্যন্তরীণ অর্থ হলো কেবলই তার ব্যক্তিত্ব আর  ব্যক্তি স্বাধীনতাকে খর্ব করা, একইসাথে তার ব্যক্তিগত জীবনে আধিপত্য বিস্তার করে নিজের ক্ষমতা জাহির করার মতন গর্হিত আচরণ প্রকাশ করা।  

তা সে যা বলছিলাম, ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন, চাকুরিতে যোগদান, অর্থ উপার্জন; এসবকিছুর কোনোকিছুই কখনই একজন নারীর জীবনে তার 'ব্যক্তি স্বাধীনতা'কে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারবে না, যদি না নারী নিজ জীবনের সকল দায় ও দায়িত্ব নিজে গ্রহণ করতে পারেন। সম্ভবত নিজ জীবনে ব্যক্তি স্বাধীনতার মতন মূল্যবান একটি সম্পদের বীজ বপনের প্রধান নিয়ামক এটিই। অর্থনৈতিক দায়িত্বতো অবশ্যম্ভাবী, তার সাথে আরেকটি আবশ্যিক বিষয় হলো নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজে গ্রহণ করা। যেনো সেই দোহাই দিয়ে পরিবার কিংবা সমাজ একজন নারীর ব্যক্তিত্ব ও তার ব্যক্তিজীবনের স্বাধীনতাকে খর্ব ও কুক্ষিগত করতে না পারে   ।।

No comments:

মায়ের মানসের অনাময

ধরুন সকালে ঘুম ভাঙ্গা থেকে আরম্ভ করে ঘুমুতে যাবার সময় পর্যন্ত, এবং পুরো ঘুমের সময়টাতেও আপনি অনুভব করলেন কেউ আপনার পেছনে লেজের মতন করে একটা দ...