বালিকাটির ভূগোল পড়তে বেশ লাগত, ভূগোল বইয়ের পাতায় পাতায় চোখ বুলিয়ে সে জগতময় বিচরণ করত ।
ধীরে ধীরে বালিকার মাঝে পৃথিবী ভ্রমণের শখ জাগে, সেই শখ একদিন রূপ নেয় স্বপ্নে ।
স্বপ্নে বিভোর বালিকা প্রায়শই হারিকেনের আলোকে সাহারার সূর্যাস্ত ভেবে ভুল করে, চাঁদের আলোয় সে প্যারিসের পথে হেঁটে বেড়ায়; এভাবে হাঁটতে হাঁটতে হঠাত্ করেই তার কানে একটা সুর বেজে ওঠে, খুব পরিচিত সেই সুর ।
স্বপ্ন বিভোর বালিকার ভ্রম ভাঙ্গে সানাইনের সুরে। তার স্বপ্নের ঘোর কাটতে না কাটতেই তাকে গ্রাস করে অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা।
বালিকার জগত হয়ে উঠে তখন চার-দেয়াল।
প্যারিসের পথে বালিকার আর হাঁটা হয়না।
উঠোনময় তাকে হাঁটতে হয় সারাবেলা।
এর-ওর প্রয়োজন মিটিয়ে নিজেকে নিয়ে ভাববার সময়টুকু পর্যন্ত হয়না, আর জগত নিয়ে ভাবনা ?
সেতো এক বিলাসিতা !
এভাবেই গড়িয়ে চলে দিন-মাস-বছর।
বালিকা বৃদ্ধ হয় ।
একদিন কোন এক পূর্ণিমা রাতে ক্ষীণদৃষ্টিতে সে চাঁদের দিকে তাকায়, তার চোখে ভেসে উঠে শৈশবের সেই ভূগোল বইয়ের পাতা, পাতায় পাতায় আঁকা তার স্বপ্নের জগত, প্যারিসের রাজপথ ।
বৃদ্ধার জোড়া-চোখে জল গড়ায়, আনমনে বেড়িয়ে আসে দীর্ঘশ্বাস; অতৃপ্ততা আর শুন্যতায় পূর্ণ দীর্ঘশ্বাস ।
জীবন কি কেবলই এক দীর্ঘশ্বাস !
No comments:
Post a Comment